বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাস | bisso ejtema | islamic post

বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাস | bisso ejtema | islamic post

বিশ্ব ইজতেমা


 ইজতেমা একটি আরবি শব্দ, এর বাংলা অর্থ হচ্ছে জমা হওয়া 


বিশ্ব ইজতেমার ইতিহাস

নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে ঢাকা অবস্থিত কাকরাইল মসজিদে দ্বিতীয় বিশ্ব ইজতেমা হয় ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে তৃতীয় বিশ্ব ইজতেমা হয় ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন। চতুর্থ ইজতেমা হয় ১৯৬৬ সালে গাজীপুর জেলার টঙ্গী বাজার সংলগ্ন মাঠে এরপর ১৯৬৭ সাল থেকে আজ অব্দি এই বিশ্ব ইজতেমা চলছে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে 


বিশ্ব ইজতেমার বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে সেই স্থানটি বিশ্ব ইজতেমার জন্য নির্ধারিত নিজ দেশে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করতে পারায় বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান নিজেদেরকে বড় ভাগ্যবান মনে করেনসেখানে প্রায় ৩০০ একর জায়গা জুড়ে বিশাল চটের সামিয়ানার নিচে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ সমবেত হয় তাদের লোক সংখ্যা হয়ে ওঠে প্রায় ৩৫/৪০  লক্ষের উপরে । 


বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লীদের আগমন

জুম্মার দিনে এর পরিমান আরো অনেক বেশি হয়েথাকে। ঢাকা ও তার পার্শবর্তী এলাকার
অনেক মানুষ একসাথে জুম্মার নামাজ ও নামাজ শেষে মুনাজাতে অংশ গ্রহন ও বয়ান শুনার জন্য
ময়দানে আসেন
। 

এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা আমেরিকা সহ পৃথিবীর টি মহাদেশের মধ্যে প্রায় সকল দেশ থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন এই বিশ্ব ইজতেমায় সমবেত হন । 


বিশ্ব ইজতেমায় ইসলামিক সাম্য

এখানে দেশিবিদেশী, আরব-অনারব, ধনীগরিবের কোন ভেদাভেদ লক্ষ্য করা যায় না বহু সম্পদশালী লোক এখানে এসে গরীবদের সাথে একই চাটায়ের বিছানায় পাশাপাশি বসে বয়ান শুনে, রাত্রি যাপন করে এবং একই সাথে তারা সালাত আদায় করে, একই প্লেটে খাবার খায়, হিংসা, পরনিন্দা, অহংকার, সবকিছু যেন সকলেই ভুলে যায় সকলের চলাফেরা কথাবার্তা সবকিছুর মধ্যে মায়াময় মাধুর্যতা প্রকাশ পায় 


 বিশ্ব ইজতেমা মুসলিম সমাবেশ

বিশ্ব ইজতেমা বিশ্ব মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশইসলামের গুরুত্বপূর্ন ফরজ বিধান হজের পরে এর চেয়ে বড় কোনো সমাবেশ একসাথে এত অধিক সংখ্যক মুসলমান আর কোথাও সমবেত হয় নাআরাফার ময়দানে যেমন বিশ্ব মুসলিমদের উদ্দেশ্যে খুতবা বা বক্তৃতা দেয়া হয়, হেদায়েতের বানী শোনানো হয়, ঠিক তেমনি ভাবে বিশ্ব ইজতেমার ময়দানেও তাবলীগ জামাতের বিশ্ব নেতৃত্ববৃন্দ হযরতে ওলামায়ে কেরামগণ সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঈমান আমল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করে থাকেন মুসলমানদের ঈমানী চেতনা বৃদ্ধি করার জন্য আলোচনা করেন।  ইসলামের মূল কাজগুলো সম্পর্কে তারা বিস্তারিত নসিহত করে থাকেন সৎ কাজের আদেশ , অস কাজের নিষেধ করার জন্য সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে সাহিত করে। 


এই ইজতেমার ময়দান
থেকে কিছু মানুষ দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে পথভুলা বান্দাদের সঠিক পথের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে
ও নিজেরা দ্বীন শিক্ষার জন্য সারাপৃথিবীতে ছড়িয়ে পরে। কেউ
বের হয় ১ চিল্লা (৪০দিন) কেউ ৩চিল্লা (১২০দিন) কেউ বা আবার ১ সাল (১বছর) যে যার সাধ্য মত। এবারের বিশ্ব ইজতেমা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি লোকে লোকারণ্য বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন হেদায়েতের উদ্দেশ্যে এখানে অংশগ্রহণ করেথাকেন এবং তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যোগ্য ওলামায়ে কেরাম । 


আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করব তিনি যেন বিশ্ব ইজতেমাকে কবুল করেন।  এই ইজতেমাকে উদ্দেশ্য করে সমস্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে হেদায়েত দান করেন। (আমিন) 


আরো পড়ুন>> হালাল খাবারের ফায়দা


***ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও ফলো করে আমাদের সাথে থাকুন এবং আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিন।***

 ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন কিছু জানতে: Visit – https://www.rihulislam.com/

Leave a Reply