রাসূলের তায়েফ সফরের ঘটনা | nobijir tayef soforer ghotona | islamic post

রাসূলের তায়েফ সফরের ঘটনা | nobijir tayef soforer ghotonaইসলামিক ইতিহাস

islamic post | bangla hadis

রাসূলের তায়েফ সফরের ঘটনা | nobijir tayef soforer ghotona | islamic post

রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচা আবু তালিব জীবিত থাকা কালীন, মক্কার কাফেরেরা সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে কোন প্রকার কষ্ট দিতে ভয় করতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচার ইন্তেকালের পর কিছুদিনের মধ্যেই হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার ইন্তেকাল হয়। অল্প সময় ব্যবধানে দুইজন প্রিয় মানুষকে হারানোর কারণে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব ভেঙ্গে পড়লেন। 


এদিকে আবু তালিবের ইন্তেকাল কুরাইশ পৌত্তলিকদের জন্য সকল বাধা দূর হয়ে গেল। তারা নবীজি ও তার অসহায় সাহাবীদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন নিজের আত্মীয়-স্বজনের হাতে নিগৃহীত হলেন এবং তাদের হেদায়েতের ব্যাপারে মোটামুটি নিরাশ হয়ে গেলেন। 


তখন মক্কার বাইরে গোত্রগুলোর দিকে মনোনিবেশ করলেন। বুক ভরা আশা ছিল, হয়তো তাদের কেউ সত্যের ডাকে সাড়া দেবে। তাই তিনি মক্কার অদূরে তায়েফ অঞ্চলের তাশরিফ নিয়ে গেলেন। সেই অঞ্চলের গোত্রগুলো তিনটি শাখায় বিভক্ত ছিল এবং সবগুলো শাখার সর্দাররা পরস্পর আপন ভাই ছিল।


রাসূল সা. কে অপমান।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তাদের একজন ঠাট্টা করে বলল; যদি আল্লাহ আপনাকে নবী বানিয়ে পাঠিয়ে থাকেন, তাহলে খুব শীঘ্রই কাবা ঘরের চাদর বিদীর্ণ হয়ে যাবে। 


দ্বিতীয় জন উপহাস করে বলল; আল্লাহ বুঝি নবী বানিয়ে পাঠানোর জন্য আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে পেলেন না? অন্য কাউকে নবী বানিয়ে পাঠাইতেন। 


তৃতীয় জন একটু শালীন ভাষায় বলল; যদি আপনি সত্যিই নবী হন, তাহলে আপনার সঙ্গে কথা বললে বেয়াদবি হয়ে যাবে। আর যদি মিথ্যা দাবি করে থাকেন, তাহলে আপনার সাথে কথা বলার কোন আগ্রহ আমার নেই। 


নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভারাক্রান্ত হৃদয়ের সেখান থেকে মক্কা অভিমুখে রওনা হলেন। তায়েফের লোকেরা দুষ্ট ছেলেদের নবীজির পিছনে লেলিয়ে দিলেন, তারা নির্মমভাবে পাথর মেরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম কে রক্তাক্ত করে ফেলেল।  রক্তের প্রবাহে তার জুতা মোবারক পর্যন্ত ভিজে গেল। তিনি সারাদিনের ক্লান্ত ছিলেন, খাওয়া-দাওয়া কিছুই করেননি। অবশেষে একটা পাহাড়ের পাদদেশে মাটিতে বসে পড়লেন এবং সেখানে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট এক ঐতিহাসিক দোয়া করলেন।


রাসূল সা. এর দোয়া। 

হে আল্লাহ! আপনি কি আমার উপর অসন্তুষ্ট? নতুবা এদের হাতে আমাকে কেন সোপর্দ করলেন? এরাতো আমার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছে। হে আল্লাহ! যদি আপনি অসন্তুষ্ট হন, তাহলে আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি; আপনি  আমাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার সেই নূরের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যার ফলে সকল অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায়। 

আরো পড়ুন>> নবীজীর হাত থেকে পানির নহর 


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বুকভরা কষ্টের দোয়ায় আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠল। তৎক্ষণাৎ ফেরেশতারা এসে বলল; হে আল্লাহর প্রিয় রাসূল, আপনি অনুমতি দিন, আমরা এই জনপরতা ( তায়েফ ) মাটির সাথে মিশিয়ে দেই। এমন ধূলিঝড় চালাবো যে, তাদের ( তায়েফ বাসীর ) নাম নিশানাও বাকী থাকবে না। আপনি যদি পছন্দ করেন, তাহলে আপনার সাথে বেয়াদবির শাস্তি স্বরূপ  তাদের ( তায়েফ বাসী ) কে মাঝখানে রেখে দুই দিকের দুটি পাহাড় দিয়ে চাপা দেই, যেন তারা দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় নেয়। 

আরো পড়ুন>> সাপ দ্বারা রাসূল সা. কে সাহায্য


কিন্তু রহমতের নবী দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, দেখো তারা কেউ আমাকে চিনতে পারেনি; তাই তারা আমাকে এত কষ্ট দিয়েছে। আমি আশা করি তাদের বংশধরদের মধ্যে হতে কখনো না কখনো এমন লোক তৈরি হবে, যারা কালিমা পাঠ করবে এবং আল্লাহকে এক বলে স্বীকার করবে। 

আরো পড়ুন>> এক গ্লাস দুধে শতাধিক লোকের ভোজন


অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নিকট এই বলে দোয়া করলেন। ”হে আল্লাহ! আমার কওম কে তুমি হেদায়েত দাও। কারণ, তারা জানে না।“ 

আরো পড়ুন>> রাসূল সা. এর স্বপ্নের বর্ণনা


অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে তায়েফ থেকে মক্কার পথে পা বাড়ালেন। এখানে আসার পর তার দুঃখ বেদনা আরো বেড়ে গেল। অন্তরে কষ্ট আরো বেড়ে গেল। আপনজনদের আচরণ দেখে নিলেন, আবার পর মানুষের যন্ত্রণাও দেখে নিলেন। 

সারকথা, শত্রুরা তাকে চরম সংকটে ফেলে দিল।


***ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক ও ফলো করে আমাদের সাথে থাকুন এবং সওয়াবেরে উদ্দেশ্যে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply