উমর রা. এর ইসলাম গ্রহণ | history of omar | islamic post

   উমর রা. এর ইসলাম গ্রহণ | history of omar

ইসলামি ইতিহাস

islamic post | bangla hadis

উমর রা. এর ইসলাম গ্রহণ | history of omar | islamic post 

হযরত উমর রা. এর প্রথম জীবন-

হযরত উমর রা. ছিলেন কুরাইশদের মধ্যে অত্যন্ত ব্যক্তিত্ববান পুরুষ। বাহাদুর, শক্তিশালী, ঘোড়া চালনায় পারদর্শী এবং দক্ষ একজন যোদ্ধা। বাচনভঙ্গি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় । উরম রা এর মতামত, চূড়ান্ত বলে বিবেচিত করা হতো। তিনি কুরাইশদের প্রতিনিধি হয়ে, রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করতেন।


ইসলামের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে তিনি কুরাইশ কাফেরদের পক্ষ নিয়ে সামনের কাতারে ছিলো তার অবস্থান। ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন নিপীড়নের ক্ষেত্রে, তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন।


মক্কার কাফেরদের ঘোষনা-

মক্কার বড় বড় কাফের আবু জাহেল, আবু লাহাব, উতবা ইত্যাদি কাফেরের দল পরামর্শ করে ঘোষনা করলেন। যে নবী মুহাম্মদের মাথা আনতে পারবে তকে ১০০ উট পুরষ্কার দেয়া হবে।


হযরত উমর রা. এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে যা জানা যায়:-

এই ঘোষনা শুনে একদিন হযরত উমর রা. তরবারি হাতে নিয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিরতরে শেষ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন। চলার পথে তাঁর এক আত্মীয়ের সাথে দেখা হয়। তার আত্মীয় জিজ্ঞেস করলেন, “উমর তুমি তরবারি হাতে কোথায় যাচ্ছ? তিনি উত্তর দিলেন, ঐ ধর্মদ্রোহীকে হত্যা করতে যাচ্ছি, যে আমাদের দেব-দেবীদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের দোষ বর্ণনা করছে। আমাদের ঘরে ঘরে অনৈক্য সৃষ্টি করে দিয়েছে। আমি তার মাথা আনতে যাচ্ছি।


আরো পড়ুন>> ইসলামে মায়ের মর্যাদা


উমরের মুখে এই কথা শুনে তার আত্মীয় বললেন, ‘প্রথমে তুমি তোমার নিজের ঘরের খবর নাও। মুহাম্মদ সা. কে হত্যা পরে কর। তিনি বললেন কি হয়েছে আমার ঘরের? আত্মীয় বলল: তোমার বোন ফাতেমা এবং তোমার ভগিনীপতি সাঈদ ইবনে যায়েদ তো মুসলমান হয়ে গেছে।


এমন কঠিন সত্য হজম করতে তার কষ্ট হচ্ছিল। আর কাল বিলম্ব না করে হযরত উমর সোজা বোনের বাড়িতে গেলেন। ঐ সময় তার স্বামী-স্ত্রী উভয়েই হযরত খাব্বাবে রা. এর কাছে কোরআন পড়ছিলেন।


আরো পড়ুন>> নবীজির তায়েফ সফরের ঘটনা


তিনি দরজায় দাড়িয়েই কোরআন পড়ার আওয়াজ শুনে ফেললেন। ভেতরে প্রবেশ করেই তিনি ভগিনীপতিকে মারতে শুরু করলেন। এই অবস্থা দেখে বোন ছাড়াতে আসলে উমর তার নিজ বোন কে আঘাত করে তার মাথা ফাটিয়ে দিলেন। তখন স্বামী স্ত্রী উভয়েই অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই বলে ঘোষণা করলেন, ‘হে উমর, আমরা দুই জনই মুসলমান হয়েছি। তোমার আঘাতের কারনে আমরা কখনোই ইসলাম ত্যাগ করবো না। এখন তোমার যা খুশি করতে পার। কিন্তু আমরা আমাদের কথায় অটল থাকবো। ‘

আরো পড়ুন>> রাসূলের মক্কী জীবনের কষ্টের ঘটনা


উভয়ের এই দৃঢ়তা, সিদ্ধান্তে অটলতা এবং বোনের মাথা থেকে প্রবহমান রক্তের ধারা দেখে হযরত উমর থমকে গেলেন। ক্রোধ প্রশমিত হয়ে অনুতাপ এসে মনে বাসা বাঁধল।


কোরআনের মু’জিযা:

অবশেষে তিনি বোনের কাছ জানতে চাইলেন, তোমরা ঘরে কি করছিলে? আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল কৃত কোরআনে মাজীদ পাঠ করছিলাম। উমর বলল সেটি আমাকে দাও! সে বলল; এটা পবিত্র গ্রন্থ, নাপাক কাউকে দেয়া যাবে না। ভাই তুমি নিতে চাইলে গোসল করে পবিত্র হয়ে এসো।


আরো পড়ুন>> হযরত উসমান রা. এর ব্যবসা


অতঃপর সে তার বোন থেকে সেই গ্রন্থটি নিয়ে পড়লেন, যেখানে সূরা ত্বহার আয়াত ছিল। আর তা পড়ার সাথে সাথেই তাঁর কঠিন হৃদয় মোমের মতো গলে গেল। তৎক্ষণাৎ তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন।

**** আল্লাহ আমাদের সকল কে হেদায়াত দান করুন (আমিন) ****

*** ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক ও ফলো করে আমাদের সাথে থাকুন এবং সওয়াবেরে উদ্দেশ্যে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিন।

Leave a Reply