কোরআনে বর্ণিত আদ জাতির ইতিহাস | history of ad nation | islamic post

কোরআনে বর্ণিত আদ জাতির ইতিহাস | history of ad nation

কোরআন

islamic post | bangla tafsir

কোরআনে বর্ণিত আদ জাতির ইতিহাস | history of ad nation | islamic post

আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই  হুদ আ. কে। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই।

তার সম্প্রদায়ের সরদাররা বলল, আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।

সে বলল: হে আমার সম্প্রদায়, আমি মোটেও নির্বোধ নই বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর।

তোমরা তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছেদেই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্খী বিশ্বস্ত।

তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে কমে নূহের পর সরদার করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি বেশি করেছেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামত সমূহ স্মরণ করো, যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়।

তারা বলল: তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব  নিয়ে আসো আমাদের কাছে যা দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও। (সূরা-আ’রাফ,আয়াত- ৬৫,৬৭,৬৮,৬৯,৭০)

হুদ আ. এর সম্প্রদায়কে আল্লাহর এবাদতের আহবান।

আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদ আ. কে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন-হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছো।

হে আমার জাতি আমি এই জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তারই কাছে  যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবু তোমরা কেন বুঝ না?

আর হে আমার কওম! তোমাদের পালনকর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তারই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মতো বিমুখ হইয়ো না। (সূরা-হুদ, আয়াত- ৫০,৫১,৫২)

আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

তখন তাদের ভাই হুদ, তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রাসূল।

অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার অনুগত্য কর। (সূরা-শু’আরা, আয়াত- ১২৩,১২৪,১২৫,১২৬)


হযরত হুদ আ. এর আহ্বানকে তার সম্প্রদায়ের প্রত্যাখ্যান।

তারা বললো- হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আসো নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়ন কারীও নই।

 

বরং আমরাও তো বলি যে, আমাদের কোন দেব-দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হযরত হূদ আঃ বললেন, আমি  আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমরাও সাক্ষী থাকো যে, যাদেরকে তোমরা শরিক করছ তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই । (সূরা-হুদ, আয়াত- ৫৩,৫৪)


তারা বললো, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয় আমাদের জন্য সমান।

এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।

আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না। (সূরা-শু’আরা, আয়াত- ১৩৬,১৩৭,১৩৮)


তারা বলল, তুমি কি আমাদের কে আমাদের উপাস্য দেব-দেবী থেকে নিবৃত্ত করতে আগমন করেছ? তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা দাও তা নিয়ে আসো। (সূরা-আহক্বফ, আয়াত- ২২)

তারা বলল; তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদা যাদের পূজা করতো তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আসো আমাদের কাছে যা দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ। যদি সত্যবাদী হও। (সূরা-আ’রাফ, আয়াত- ৭০)

আদ জাতি ধ্বংস হওয়ার ইতিহাস।


আদ জাতি

যারা ছিল আদ, তারা প্রতিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বলল, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী কে? তারা কি লক্ষ্য করেনি? যে আল্লাহ তাদের কে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর। বস্তুুত: তারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করত।

অতঃপর আমি তাদেরকে প্রার্থীর জীবনের লাঞ্ছনার আজাব আস্বাদন করানোর জন্য তাদের উপর প্রেরণ করলাম ঝঞ্ঝাবুয়ু বেশ কতিপয় অশুভ দিনে। আর পরকালের আজাব তো আরো লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। (সূরা-হামীম সাজদাহ, আয়াত- ১৫,১৬)


এবং আদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্ঝাবায়ূ।

যা তিনি প্রবাহিত করেছিলেন তাদের উপর ৭ রাত্রি ও ৮ দিবস পর্যন্ত অবিরাম। আপনি তাদেরকে দেখেছেন যে, তারা অসার খের্জুর কান্ডের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে রয়েছে।  (সূরা-হাক্কহ, আয়াত- ৬,৭)

এবং নিদর্শন রয়েছে তাদের কাহিনীতে; যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম শুভ বায়ূ।

এই বায়ু যার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল: তাকেই চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দিয়েছিল। (সূরা-যারিয়াত, আয়াত- ৪১,৪২)

অত:পর তারা যখন শাস্তিকে মেঘ রূপে  তাদের উপত্যকা অভিমুখী দেখলো, তখন তারা বলল, এ তো মেঘ,  আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে বরং এটা সেই  বস্তু যা তোমরা তারাতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে তোমাদের মর্মন্তুদ শাস্তি।

তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর তারা ভোরবেলা এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় না। আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।

আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসলো না। যখন তারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে অস্বীকার করলো এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নেই যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত। (সূরা-আহক্বফ, আয়াত- ২৪,২৫,২৬)

আদ সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, অতঃপর কেমন কঠোর হয়েছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।

আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু এক চিরাচরিত অশুভ দিনে।

তা মানুষকে উৎখাত করছিল যেন তারা উৎপাটি তো খরচুর বৃক্ষের কান্ড। (সূরা-ক্বমার, আয়াত- ১৮,১৯,২০)


আরো পড়ুন>> কোরআনে বর্ণিত ইউসুফ জুলেখা ইতিহাস


আদ জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

হুদ আ. এর ঘটনা


আদ জাতি লোহিত সাগরের প্রান্তে হাজরামাউত ও ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বসবাস করেছিল। তারা দেব-দেতার পূজা করত। আল্লাহ তা’য়ালা তাদের মধ্য থেকে হযরত হুদ (আঃ)-কে,  আদ জাতির হেদায়েতের জন্য নবী হিসেবে প্রেরন করেন। তিনি কওমকে যখন হেদায়েতের দাওয়াত দিলেন তখন তারা নবীর কথা শুনে ঠাট্রা বিদ্রুপ আরম্ভ করে দিল। তারা নবীকে বলল, তুমি আল্লাহর বিশেষ দূত হিসেবে আমাদের হেদায়েত করতে এসেছ তার প্রমান কি? যদি তুমি নবী হও তাহলে উপযুক্ত প্রমান দাও। নবী বললেন, তোমাদের ভীতি প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ আমাকে তোমাতের নিকট পাঠিয়েছে। 

আরো পড়ুন>> কোরআনে বর্ণিত ছামুদ জাতির ইতিহাস


অতএব তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন এবং দেবদেবীর পূজা ছেড়ে দাও তোমাদের সর্বত্র মঙ্গল হবে, অন্যথায় তোমাদের উপর কঠিন আজাব আসবে এবং তোমরা ধ্বংস হবে। তারা নবীর নছিহত শুনে বলল আসুক আজাব, আমরা সে আজাবের ভয় করি না। আমরা শক্তিশালী। আজাবের মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের আছে। তবুও আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষের ধর্ম পরিত্যাগ করব না। তারা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘকায়। তাঁদের মধ্যে উর্দ্ধে ৪০০ গজ পর্যন্ত লম্বা মানুষ ছিল।

আরো পড়ুন>> কোরআনে বর্ণিত ইব্রাহিম নবীর ইতিহাস


আর বেঁটেদের উচ্চতা ছিল ৭০ গজ। তারা দুই তিন জন একত্রিত হয়ে ছোট ছোট পাহাড় উল্টিয়ে ফেলতে পারত। তাদের থেকে মাত্র ৭০ জন নবীর দাওয়াত কবুল করে । অন্যরা নবীর প্রতি ঈমান আনল না। বরং তাদের কিছুি লোক নবীকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল। আল্লাহ নবীকে জানিয়ে দিলেন, হে নবী! আপনি আপনার সত্তর জন উম্মতকে নিয়ে শহর থেকে বেরিয়ে যান এবং পাহাড়ের এক গুহায় গিয়ে আশ্রয় নিন। আমি অতি শীঘ্রই তাদের উপর আজাব প্রেরণ করছি। নবী আদ জাতীতে আগত আজাবের কথা জানিয়ে দিলেন, কওমের লোকেরা নবীর কথা বিশ্বাস করল না। তারা বলল, হে হুদ তোমার আল্লাহ আজাব পাঠিয়ে আমাদেরকে দুর্বল করতে পারবে না।

আরো পড়ুন>> কোরআনে বর্ণিত নূহ নবীর ইতিহাস


নবী আল্লাহ নির্দেশে উম্মতগণকে নিয়ে শহর ত্যাগ করলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তিনি পার্বত্য এলাকায় গিয়ে পৌঁছেন। এক গুহায় ঢুকে আশ্রয় নিলেন। এদিগে কওমে আদের উপর আজাব আরম্ভ হলো। আকাশে মেঘজমে ঝঞ্ঝাবায়ু বইতে লাগলো। যার ফলে সব কিছু উলট-পালট হয়ে ধ্বংশ হয়েগেল। আজাব শেষে দেখাগেল, উপর থেকে মানুষের লাশ, গাছ ও পাহাড়ের টুকরো গুলো মাটিতে পতিত হল। মানুষের লাশগুলো দেখতে উপড়ানো শিকড়যুক্ত খেজুর গাছের ন্যায় এলোমেলোভাবে যেখানে সেখানে পড়ে ছিল। পবিত্র কোরআনে দৃশটি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।


***ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক ও ফলো করে আমাদের সাথে থাকুন এবং সওয়াবেরে উদ্দেশ্যে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিন।

2 Comments

Leave a Reply