সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম | salatul tasbih namajer niyom

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম | salatul tasbih namajer niyom

সালাতুত তাসবিহ নামাজ

islamic post | bangla hadis

নফল নামাযের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নামায হলো সালাতুত্ তাসবীহ চার রাকাত নামাযে মোট তিনশত বার বিশেষ তাসবীহ পাঠ করতে হয়। তাসবীহের আধিক্যের কারণে পুরো নামাযকে সালাতুত্ তাসবীহ বলা হয়েছে।


এ নামাযের ফযীলত সম্পর্কে হাদীছে আছে যে, এই নামায দ্বারা জীবনের ছোট বড়, নতুন-পুরাতন, ইচ্ছাকৃত-অনিচ্ছাকৃত, গোপন-প্রকাশ্য সবরকম পাপ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর চাচা আব্বাস রাযি.- কে বলেছিলেন, “চাচা! পারলে আপনি প্রতিদিন এই নামায পড়ুন। তা না পারলে প্রতি সপ্তাহে পড়ুন, তা না পারলে প্রতি মাসে, তা যদি না হয় প্রতি বছরে, আর তাও যদি না পারেন তা হলে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামায পড়ুন।”

সালাতুত্ তাসবীহ পড়ার নিয়ম

চার রাকাত সালাতুত তাসবীহ নফল নামায আদায় করছি মনে মনে এতটুকু খেয়াল রেখে তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধতে হবে, এরপর যথারীতি ছানা, তা’আওউয, তাসমিয়াহ, সূরা ফাতেহা ও তার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে পাঠ শেষে দাঁড়ানো অবস্থায়,

তাসবিহ:

سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ للهِ وَلَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَاللهُ أَكْبَرُ

বাংলা উচ্চারন:- সুবহানাল্লহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লহু আল্লহু আকবার।

এই তাসবীহ ১৫ (পনের) বার পড়বে। তারপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পাঠ করে উক্ত তাসবীহ ১০ (দশ) বার পড়বে। এরপর রুকু থেকে উঠে ১০ (দশ) বার পড়বে। এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পাঠ করে উক্ত তাসবীহ ১০ (দশ) বার পড়বে। এরপর প্রথম সিজদা থেকে উঠে বসে ১০ (দশ) বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। তারপর দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পাঠ করে উক্ত তাসবীহ ১০ (দশ) বার পাঠ করবে। এরপর দ্বিতীয় সিজদাহ থেকে উঠে বসে ১০ (দশ) বার পড়বে। এ হলো এক রাকআতে ৭৫ (পচাত্তর) বার।


এরপর আল্লাহু আকবার বলা ব্যতীত দ্বিতীয় রাকআতে উঠবে। এই রূপে দ্বিতীয় রাকাত পড়বে। যখন দ্বিতীয় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য বসবে, তখন আগে উক্ত তাসবীহ ১০ (দশ) বার পড়বে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে তৃতীয় রাকাতে আগের নিয়মে তাসবীহ পাঠ করবে। তবে চতুর্থ রাকাতে উঠবার সময় দ্বিতীয় রাকাতের ন্যায় আল্লাহু আকবার বলা ব্যতীত উঠবে, যেহেতু এখানে আগেই আল্লাহু আকবার বলা হয়েছে। চতুর্থ রাকাতে শেষ বৈঠকেও আগে ১০ দশবার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। এভাবে চার রাকাতে সর্বমোট তিনশত বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। কোন স্থানে উক্ত তাসবীহ সম্পূর্ণ বা আংশিক ভুলে গেলে পরবর্তী যে কোন রুকুনে আদায় করে নিলেই হয়ে যাবে। এ হলো সালাতুত্ তাসবীহ।


আরো পড়ুন>> তাওবা করার উপকারিতা


খুব ধ্যান-খেয়ালের সাথে একাগ্রতার সাথে এ নামায পড়তে হয়। আজকে সালাতুত তাসবীহ তাসবীহ পড়ার এক উত্তম সুযোগ। সুতরাং আমরা যারা পারি এ নামায পড়ার চেষ্টা করি। আর কাযা নামায থাকলে তা এভাবে নিয়ত করে পড়ে নেব। ধরুন, ফজরের নামায আপনার কাযা আছে এবং একাধিক ফজর ও যোহরের নামায বা অন্য কোন ওয়াক্তের নামায কাযা হয়ে গেছে। এসব কাযা নামাযের ক্ষেত্রে এইভাবে নিয়ত করতে হবে যে, আমার জীবনে যত ফজর নামায কাযা হয়েছে তার প্রথম ফজরের নামায পড়ছি অথবা বলবে শেষ ফজরের নামায পড়ছি, আল্লাহু আকবার।


আরো পড়ুন>> হালাল খাবারের ফায়দা 


এভাবে একই সময়ে যে কোন ওয়াক্তের কাযা নামায যে কয় ওয়াক্তের নামায ইচ্ছা হয় আদায় করা যাবে। শুধু নিয়ত করবে যে, অমুক ওয়াক্তের জীবনে যত নামায কাযা করেছি তার শুরুটা আদায় করছি বা নিয়ত করবে যে, শেষটা আদায় করছি। এভাবে যে কয় ওয়াক্ত সম্ভব কাযা নামাযের নিয়ত করে করে পড়বে।


তবে একথা স্মরণ রাখতে হবে যে, কাযা নামায শুধু ফরয ও বিতরের করতে হয়। সুন্নতের কোন কাযা নেই। এভাবে কিছু নফল নামায ইবাদত-বন্দেগী, তাওবা-ইস্তেগফারের পর কান্নাকাটি করে দু’আ করতে হবে। কেননা দু’আ হলো ইবাদতের মগজ।


আরো পড়ুন>> আল্লাহর ভয়ে যে চোখ কাঁদে


দু’আর দ্বারা বান্দা অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।

আদম আ. দু’আ করে ক্ষমা লাভ করেছেন।

• ইবরাহীম আ. দু’আ করে নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

• ইউনুস আ. দু’আ করে মাছের পেট থেকে মুক্ত হয়েছেন।

• ঈসা আ. দু’আ করে ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রেহাই পেয়ে আসমানে উঠেগেছেন।

• হুযূর সা. বদরে, উহুদে, খন্দকে দু’আ করে শত্রুর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছেন।


সুতরাং আমাদেরও যত সমস্যা আছে, এ দু’আর মাধ্যমে আল্লাহ’র কাছ থেকে তার সমাধান করিয়ে নিতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আগামী বছরগুলোতে যেন আমরা সব ধরনের বিপদ-আপদ হতে মুক্ত থেকে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাতে পারি, আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন! আমীন!


*** ভাল লাগলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট, শেয়ার এবং ফলো করে আমাদের সাথে থাকুন। সওয়াবের উদ্দেশ্যে বন্ধুদের নিকট ছড়িয়ে দিন।

Leave a Reply